Header Ads

Header ADS

মুসা নবী আজরাইল ফেরেস্তাকে থাপ্পড় মেরেছিলেন!

মুসা নবী আজরাইল ফেরেস্তাকে থাপ্পড় মেরেছিলেন!

মূসা (আঃ) ছিলেন বনি ইসরাইলের একজন কিতাব ধরি নবী। তাঁর জীবনে রয়েছে অসংখ্য অলৌকিক ঘটনা; কিন্তু আপনি কি জানেন মুসা (আঃ) এর মৃত্যুর সময় আজরাইল ফেরেশতাকে থাপ্পড় দিয়ে চোখ কানা করে দিয়েছিল! মুসা (আঃ) আজরাইল ফেরেশতাকে থাপ্পড় দেয়ার বিস্ময়কর ঘটনা এবংমুসা নবীর মৃত্যুর ঘটনা  সম্পর্কে জানব।


            জীবনের বহু সংগ্রামের পর মূসা (আঃ) আল্লাহতালার নির্দেশে ফেরাউন এবং তার সৈন্যবাহিনীকে শেষ করে ফেললেন। তারপর লোহিত সাগরের ওপারে অসহায় বনী ইসরায়েল জাতিকে নিয়ে বসবাস করতে লাগলেন।ইতিমধ্যে তিনি আল্লাহর দেওয়া সকল আদেশ দায়িত্ব সহকারে পালন করেছেন এবং এর মধ্যে ঘটে যায় অনেক ঘটনা, অতিবাহিত হয় সময়ের পর সময়। মুসা (আঃ) এর বয়স হয়েছে অনেক তা তিনি নিজেই বুঝতে পারেন। তাই এবার বিশ্রামের পালা।শরীরের শক্তি এবার প্রায় শেষে হয়ে আসছে। বয়স বাড়লে এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক।তারপর মূসা (আঃ) নিজ হাতে সব দায়িত্ব ইউশা (আঃ) এর উপর দিয়ে দেন।এবং তিনি বিশ্রাম নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।আর মনে মনে অতিতের কথা ভাবছিলে  ঠিক এমন সময় মালাকুল মউত অর্থাৎ আজরাইল ফেরেশতা এসে হাজির হয়। মূসা (আঃ) আজরাইল ফেরেশতাকে তাকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন আপনি কি আমার জান কবজ করতে এসেছেন?আজরাঈল বললেন হ্যা,আল্লাহ হুকুম করেছে এবং আপনার সময় শেষ হয়ে এসেছে।হযরত মুসা আঃ তখন জিজ্ঞেস করলেন আপনি কি মুখ দিয়ে আমার জান বের করবেন?আজরাঈল বললেন হ্যাঁ। তখন তিনি বলেন এই মুখ দিয়ে আমি সয়ং আল্লাহর সাথে কথা বলেছি।তখন আজরাঈল বললেন তাহলে চোখ দিয়ে জান বের করবো।তখন মুসা আঃ বললেন এই চোখ দিয়ে আল্লাহর নূর দেখেছি। আজরাঈল বললেন তাহলে নাক দিয়ে নিবো,মুসা আঃ বল্লেন আমি নাক দিয়ে বেহেস্তের সুঘ্রান নিয়েছি।আজরাঈল তখন বললেন আপনার এতো কথার জবাব দেয়ার সময় আমার নেই,আমার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই আমি জান কবজ করবো।হযরত মুসা আঃ আজরাঈলের কথায় রেগে গেলেন এবং বেয়াদব বলে তাকে কষিয়ে একটা থাপ্পড় দিয়ে দিলেন।এতে আজরাঈলের চোখ দুটি বের হয়ে যায়
এবং আজরাঈল আঃ কানা হয়ে যায়।






           এই অবস্থায় তিনি আল্লাহর কাছে চলে গেলেন এবং আল্লাহকে সব ঘটনা খুলে বললেন।আল্লাহ আজরাঈলের চোখ ঠিক করে দিয়ে বললেন তোমাকে আর তার কাছে যেতে হবে না। তার জান কবজ এর বিষয় আমিই দেখব।কয়েকদিন পর আল্লাহ্ ওহি মারপত মুসা আঃ কে বললেন,হ্যাঁ মুসা তুমি যদি একটি মেষের পশমের সংখ্যা পরিমান হায়াতের জন্য আর্জি কর আমি তোমাকে তত বছর হায়াত বাড়িয়ে দিব।তুমি যত বছর বাচতে চাও আমি তোমাকে তত বছর বাচিয়ে রাখব। মুসা আঃ তখন আল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলেন তার পরে কি আমাকে মৃত্যুবরন করতে হবে?আল্লাহ্ বললেন প্রত্যেক মানুষকেই একদিন মৃত্যুবরন করতে হবে এমনকি এক সময় তোমাকে ও তাই করতে হবে। তখন তিনি ভাবলেন আমি যত বছর পৃথিবীতে বেঁচে থাকব ততদিন কষ্ট ক্লেশ করেই জীবন পার করতে হবে তার থেকে ভালো আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করা।তখন মুসা আঃ বললেন তাহলে এখনি আমার মৃত্যু হক তবে আমার একটা আবদার তোমার রাখতে হবে। আমি চায় মৃত্যুর আগে একবার তুর পাহাড়ে আপনার নূর দর্শন করি। আমার এই শেষ আবদারটুকু তুমি কবুল করো। তখন আল্লাহতালা হযরত মুসা আলাই সাল্লাম কে তুর পাহাড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। মুসা আঃ কাল বিলম্ব না করে তখনই তুর পাহাড়ে রওনা দিলেন। সেখানে আল্লাহতালার নূর দর্শন করলেন এবং আল্লাহ তায়ালার সাথে কিছু কথা বললেন। সবশেষে মুসা আঃ আল্লাহকে বললেন; হে  প্রভু, আপনি আমার অবাধ্য জাতির প্রতি আর কোন গজব নাজিল না করে তাদেরকে রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দিন এবং এদেরকে রোজীদানের ব্যবস্থা করুন তারা যেন অনাহারে মৃত্যুর না করে। আল্লাহ তাআলা মুসা আলাই সালাম এর আবেদনের প্রেক্ষিতে বললেন আমি আল্লাহ ঈমানদার নাফরবান কাফের ও জীব জানোয়ারের প্রতিপালক এবং রিজিকদাতা আমি কাউকে উপবাস রাখি না যে যেখানে আছে আমি তার রিজিক সেখানেই পৌঁছে দিই। এই কথা বলার পর হযরত মুসা আলাই সাল্লাম কে আল্লাহতালা তার লাঠি দিয়ে পাহাড়ের ওপর আঘাত করতে বললেন এবং তিনি আঘাত করার সাথে সাথে পাহাড়ের উপর একটি নদী হয়ে গেল।নদীর উপর পুনরায় আঘাত করতে বললেন তিনি আঘাত করার পর দেখলেন একটি পাথর নদীর পানিতে ভেসে আসছে আল্লাহ তাআলা আবারও সেই পাথরের উপর তার লাঠি দ্বারা আঘাত করতে বললেনতিনি আঘাত করার সাথে সাথে দেখলেন পাথরের ভেতর থেকে একটি ফড়িং বের হয়েছে এবং তার মুখে এক টুকরো ঘাস। তিনি এই দৃশ্য দেখে সাথে সাথে সেজদাই পতিত হলেন। কিছুক্ষণ পরে আল্লাহতালার পক্ষ থেকে নবীকে সালাম দিয়ে বিদায় দেওয়া হল। 


          মুসা আঃ তুর পাহাড় থেকে ফেরার পথে দেখলেন ৭জন লোক একটি কবর খনন করছেন।মুসা তখন জিজ্ঞেস করলেন এই নিরজন এলাকায় কার কবর খনন করছো,তারা বলেন আপনার মত একজন ব্যাক্তির।আপনি চাইলে আমাদের সাথে এই সওয়াবের কাজে অংশগ্রহণ করতে পারেন।মুসা আঃ কাজে যোগ দিলেন এবং কিছুক্ষন কাজ করার পর সেখান থেকে একজন বলে উঠলো,হে নবী আমরা যার জন্য কবর খনন করছি তার আকৃতি ঠিক আপনার মত।আপনি একটু কবরে নেমে শুয়ে দেখলে আমরা মাপের পরিমান টা সঠিক পাবো।মূসা আঃ তাদের কথা মতো কবরে শুয়ে পড়লো।শুয়ে পড়ার পর মুসা আঃ বললেন হে খোদা এত নিরব নিস্তব্ধ জায়গাটি তুমি আমার জন্যে এই জায়গাটা কবুল করে নাও।মুসা আঃ এর কথার সাথে সাথে একজন ফেরেস্তা তাকে আপেল খেতে দিলো।এবং যখনি তিনি বিসমিল্লাহ বলে আপেল খাওয়া শুরু করলে তখনি তার জান কবজ হয়ে গেল।তখন উপস্থিত ফেরেস্তারী মুসা আঃ কে কবর থেকে তুলে গোসল করিয়ে জানাজার নামাজ পড়ে কবর দিয়ে দিলো।মুসা আঃ প্রায় ১৫০ বছর বেচে ছিলেন। তার কবরের আতত্ব আজও অজানা রয়েছে। 


কোন মন্তব্য নেই

fpm থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.