Header Ads

Header ADS

ফুরাত নদীর আসল ইতিহাস | ফুরাত নদী বর্তমান অবস্থা

                             ফুরাত নদীর আসল ইতিহাস 

             পৃথিবী ধ্বংস বা কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত রাসুল (সা.) এর আগমন। যা আজ থেকে প্রায় ১৪শো বছর আগে দেখা গিয়েছে।তারপর আরো অনেক বড় বড় আলামত সংগঠিত হবে কেয়ামতের আগে।যেমন ইমাম মাহাদির আগমন,মূসা নবীর আগমন ইয়াজুজ-মাজুজ এর আগমন।এছাড়াও আরো রয়েছে অনেক ছোট ছোট আলামত। তার মধ্যে ফোরাত নদীর পানি শুখিয়ে যাওয়া এবং ফোরাত নদীতে স্বর্ণের পাহাড় উত্তোলন।নদীটি বর্তমানে মুসলিম সমাজের একটি আলোচনার বিষয়। ফোরাত নদী নিয়ে রাসুল (সা.) খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। আমরা ফোরাত নদী সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য জানতে পারবেন এখানে। 



                     ফোরাত মুলত আরবি শব্দ।এর পূর্ণনাম নাহ্‌র্‌ উল্‌-ফুরাত্‌। এবং ফোরাত নদীর আরেক নাম ইউফ্রেডিস।এটি দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার একটি নদী।এই নদীটি মুলত তুরস্ক, সিরিয়া, জর্ডান, সৌদি আরব, কুয়েত এবং ইরাক দেশগুলোতে বিরাজ করে।নদীটি তুরস্কতে উৎপত্তি লাভ করে সিরিয়া ও ইরাকের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দজলা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে এবং শাত আল আরব নামে পারস্য উপসাগরে পতিত হয়েছে।ফোরাত ও দজলা নদীর পানি ব্যবহার করেই প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতাগুলি বিকাশ লাভ করেছিল।গ্রিক নাম মেসোপটেমিয়া,শব্দটির আক্ষরিক অর্থ "দুই নদীর মাঝে"। ফোরাত নদী ২,৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এর অববাহিকার আয়তন প্রায় ৪,৪০,০০০ বর্গকিলোমিটার। এর মোট অববাহিকার মাত্র ৩০% তুরস্কতে অবস্থিত হলেও এর পানির ৯০% উৎস তুরস্কের উচ্চভূমি।ফোরাত নদীর গতিপথ মূলত দজলা নদীর সমান্তরাল। নদী দুইটি ইরাকে প্রবেশের পর একে অপর থেকে সর্বোচ্চ ১০০ মাইল দূরত্ব বজায় রেখে পাশাপাশি অগ্রসর হয়েছে।এই নদীটি প্রতিবছর ২৮০০ কোটি ঘনমিটার পানি বহন করে। এপ্রিল ও মে মাসে পানি ধারণের পরিমাণ সর্বোচ্চ।এই নদীর উপর অবস্থিত প্রধান শহরগুলি হল সিরিয়ার রাকাহ ও দাইর আজ জর, এবং ইরাকের কারবালা, হিল্লাহ এবং নাজাফ।


                      ফোরাতনদী অগভীর বলে ছোট নৌকা ছাড়া অন্য কিছু এখানে চালনা করা সম্ভব নয়। এটি পানি সরবরাহের জন্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নদীটি তুরস্ক, সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার একটি বড় উৎস। তিনটি দেশই সেচকাজ ও পানিবিদ্যুতের জন্য এই নদীর পানির উপর নির্ভরশীল।ফলে শুখিয়ে যাচ্ছে ফোরাত নদীর পানি।আঞ্চলিক রাজনীতির কারণে ফোরাত যেমন আলোচনার কেন্দ্রে তেমনি ধর্মীয় কারণেও ফোরাতের নাম মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।কিয়ামত ও ফোরাত নিয়ে রাসুল (সা.) খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।হাদিসের ব্যাখ্যায় শাইখুল ইসলাম তাকি উসমানি বলেন, ‘ফোরাত নদীতে স্বর্ণের পাহাড় উম্মোচিত হবে’—এর দুটি অর্থ হতে পারে। এক. নদীটির জায়গায় একটি পাহাড় উঠবে, যার ভেতর স্বর্ণের খনি থাকবে। দুই. নদীতে স্বর্ণের খনি থাকবে। তবে পাহাড়ের সঙ্গে তুলনার উদ্দেশ্য হলো স্বর্ণের পরিমাণ অনেক বেশি হবে।’ (তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ২২৮)।এছাড়াও ১৪শো বছর আগে এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, অচিরেই (একটা সময় এমন আসবে) ফোরাত নদীতে স্বর্ণের খনি উম্মোচিত হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি সে সময় বেঁচে থাকবে সে যেন তার থেকে কোনো অংশ গ্রহণ না করে। (বুখারি হাদিস : ৭১১৯) 

     এবং মুসলিম শরিফের বর্ণনায় এসেছে, ‘কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ফোরাত নদীতে একটি স্বর্ণের পাহাড় প্রকাশ পাবে। মানুষ তা নিয়ে যুদ্ধে জড়াবে এবং প্রত্যেক দলের শতকরা ৯৯ জন মারা পড়বে। তাদের প্রত্যেকের কামনা থাকবে হায়! বেঁচে যাওয়া মানুষটি যদি আমিই হতাম! (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৭৪৫৪) রাসুল(সা.)আরও বলেছেন,এই স্বর্ণকে কেন্দ্র করে ৮০টি দেশ যুদ্ধে লিপ্ত হবে।তবে এই স্বর্ণ কেওই ভোগ করতে পারবে না।
            
                  Global water from এর গবেষণায় দেখা গেছে ফোরাত নদীর পানি খুব দ্রুত শুখিয়ে যাচ্ছে। তবে কি কেয়ামত আমাদের খুবই নিকটে। এই নিয়ে রীতিমতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক কথা হলেও কয়েকটি হাদিস সারমর্ম করলে দেখা যায়,ফোরাত নদীর পানি শুখিয়ে যাওয়ার পরে সেখানে প্রচুর পরিমাণে সোনা জমা হওয়া বা স্বর্ণের পাহাড় উত্তোলন হবে ইমাম মাহাদির আগমনের আগে।এবং ইবনে হাযার আসকারিন (রঃ) এর মতে সেখানে অবশ্যই একটি আগুনের ফুয়ারা সৃষ্টি হবে অর্থাৎ ফোরাত নদী শুকিয়ে জাওয়ার আগে সেখান থেকে একটি আগুনের ফোয়ারা বের হবে।এটিই হলো কেয়ামতের আলামত এবং এর পরেই ইমাম মাহাদির আগমন ঘটবে।তবে যদি এর আগেই ফোরাত নদীর পানি শুখিয়ে যায় তাহলে এটি কেয়ামতের আলামত হিসেবে গন্ন হবে না।


কোন মন্তব্য নেই

fpm থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.