আবু লাহাবের শাস্তি এবং করূণ মৃত্যু্র ঘটনা
মহানবী সাঃ এর চাচা আবু লাহাবের করুণ ঘটনা
আবু লাহাব ছিলেন হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এরআপন চাচা।নবীজির আপন চাচা হওয়া সত্বেও নবীজি কে নানা ভাবে কষ্ট দিতেন। এমনকি তার স্ত্রী ও নবিজিকে নানা ভাবে কষ্ট দিয়েছেন কিন্তু নবিজি কিছুই বলতেন না। যেহেতু মুহাম্মদ সাঃ ছিলেন মহান আল্লাহর প্রিয় নবি, তাই তিনি এগুলো সহ্য করতে পারেননি।ধ্বংস করে দিয়েছেন আবু লাহাব ও তার স্ত্রীকে। এমনকি সে ধ্বংসের বর্ণনায় আল্লাহ তায়ালা একটি সূরা নাজিল করে মানুষের মুখে তুলে ধরেছেন। কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ এই সূরা পড়বে আর আবু লাহাব সম্পর্কে মানুষ জানবে। আল্লাহর নবীর সাথে বেয়াদবির ফল হিসেবে আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর উপরে যে ভয়ংকর বিপর্যয় নেমে এসেছিলো। যেই বেইজ্জতের সাথে তাদের মৃত্যু হয়েছিলো তার বিস্তারিত আলোচনা করব।
আব্দুল উজ্জাই ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম যিনি আবু লাহাব নামে পরিচিত ছিলেন। জন্মের সময় তার রক্তবর্ণ গাল ও সুন্দর মুখয়বয়ব দেখে তার বাবা তার নাম দিয়েছিলেন আবু লাহাব যার অর্থ অগ্নিস্ফুলিঙ্গের বাবা। অর্থাৎ আবু লাহাব সৌন্দর্যের দিক থেকে ছিলেন আরবের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি। তার স্ত্রী আরওয়া ছিলো তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে সুন্দর নারী। অসম্ভব রূপবতী হওয়ার কারণে তাকে ডাকা হতো উম্মে জামিল বা রূপবতী সুন্দরী নামে। দুজনেই ছিলেন মক্কার এলিট বংশের।
আবু লাহাব হিশাম গোত্রের। আর উম্মে জামিল ছিলেন আরওয়া উমাইয়ার নাত্নী আবু সুফিয়ানের বোন। এছাড়াও আবু লাহাব মক্কার সেরা ধনীদের মধ্যে একজন। মুহাম্মদের জন্মের পর থেকেই চাচা আবু লাহাবের প্রিয়পাত্র ছিলেন। কিন্তু নবুয়াত প্রকাশ করার পর থেকেই তিনি মুহাম্মাদের বিরূদ্ধে চলে যান। অনেক দিন লুকিয়ে ইসলাম প্রচারের পর আল্লাহ তায়ালা রাসূল (সাঃ)কে নিজ গোত্রের মধ্যে প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচারের নির্দেশ দিলেন। তখনকার সময়ে কোন বিপদ বোঝানোর জন্য মানুষদেরকে পাহাড়ের উপর দাড়িয়ে ডাকা হত।
একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাফা পাহাড়ে উঠে ডাক দিলেন ইয়া সাহাবা ইয়া সাহাবী এই ধরনের বাক্য দ্বারা বিপদ সংকেত বোঝানো হয়। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর আহবানে সাড়া দিয়ে অনেক লোক জরো হলো। মানুষ তাকে কতটা বিশ্বাস করে সেটা জানার জন্য তিনি বললেন আচ্ছা আমি যদি বলি একটা শত্রু বাহিনী তোমাদের উপর আক্রমণ করতে এগিয়ে আসছে পাহাড়ের অন্য পাশ থেকে যা তোমরা দেখতে পাচ্ছো না। সকাল অথবা সন্ধা যেকোনো সময় তোমাদের উপর আক্রমণ করতে পারে তোমরা কি আমার কথা বিশ্বাস করবে? সবাই সমস্বরে বললো অবশ্যই আমরা আপনার কথা বিশ্বাস করবো। এবার রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আসল কথায় এলেন,তিনি বললেন আমি আল্লাহর এক ভিশন আযাব সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করছি এই কথা শুনার সাথে সাথে আবু লাহাব বলে উঠলো ধ্বংস হও তুমি এ জন্যই কি তুমি আমাদেরকে এখানে ডেকেছো? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইসলামের দাওয়াত প্রচার শুরু করলে এই প্রথম বারের মতো কেউ রাসূলের বিরোধীতা করলো। শুধু বিরোধিতা করেই খান্ত হলো না রাসূলকে অভিশাপ দিলো এবং পাথর ছুরে মারতে উদ্যত হলো। শুধু তাই নয় তার স্ত্রী উম্মে জামিল ও নবী মুহাম্মদের চলার পথে কাটা বিছিয়ে রাখতেন এছাড়াও মুহাম্মাদ সাঃ এর নাম ব্যঙ্গ ভরে ডাকতেন মুজাম্মাম। আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর এমন উদ্যত স্বভাব আল্লাহ পছন্দ করলেন না। তিনি সূরা লাহাব নামে একটি সূরা নাজিল করে অভিশাপের জবাব দেন আল্লাহ বলেন ধ্বংস হোক আবু লাহাবের হস্তদয় এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। রাসূলুল্লাহ সাঃ মানুষদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিতে গেলে আবু লাহাব পিছু পিছু গিয়ে সে বলতো আমার ভাতিজা একজন মিথ্যাবাদী তোমারা কেউ তার কথা বিশ্বাস কোরো না। নবুওয়তের আগে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তার দুই মেয়েকে আবু লাহাবের দুই ছেলে উতবা ও মুয়াত্তাবের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বউ হিসেবে তাদের ঘরে কখনো তুলে দেননি। তবে মহানবী (সাঃ) এর ইসলাম প্রচারের শুরুর পর আবু লাহাব তার দুই ছেলেকে বাধ্য করে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মেয়েদেরকে তালাক দিতে। অবশ্য মক্কা বিজয়ের পর তার এই দুই ছেলে ইসলাম গ্রহণ করে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর ছেলে কাশেমের ইন্তেকালের পর তার দ্বিতীয় ছেলে আব্দুল্লাহ ও ইন্তেকাল করেন। এতে আবু লাহাব শোকাহত না হয়ে বরং অন্যদের কাছে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলে আজ মুহাম্মদের নাম নিশানা মুছে গেছে সে নির্বংশ হয়ে গেলো তখন আল্লাহ তায়ালা সূরা কাউছার নাজিল করে তার প্রতিবাদ করে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন ওহে নবী নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউছার দান করেছি অতঃএব আপনার পালন কর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কুরবানি করুন। যে আপনার শত্রু সে তো লেজকাটা নির্বংশ। আবু লাহাব বদর যুদ্ধের প্রাককালে গোশতের পঁচন রোগে আক্রান্ত হন। একটি দীর্ঘ সময় ধরে অসহনীয় কষ্ট ভোগ করার পর তিনি মারা যান। তার পরিবার তাকে ফেলে চলে যায়। এমনকি তার ছেলেরাও তার লাশে হাত দেয় না। তিন দিন পর্যন্ত লাশ পড়ে থাকে। অবশেষে পচন ধরলে একজন হাবশী মজদুরকে ডেকে আনা হয়। সে মক্কা নগরীর বাইরে একটি গর্ত খনন করে লাঠি দিয়ে ঠেলে লাশটিকে উক্ত গর্তে ফেলে দেয় এবং উপরে পাথর চাপা দেয়।
উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়শা রাঃ যখন তার দূরগন্ধযুক্ত পুতে ফেলা লাশের পাশ দিয়ে যেতেন তখন প্রতিবাদ হিসেবে ওই স্থান নাক ঢেকে পার হতেন। আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল শক্ত রশি দিয়ে তার লাকড়ির আটি বাধতো। একদিন এইভাবে বাধা লাকড়ির আটি মাথায় নিয়ে একটি পাথরের উপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল ঠিক সেই সময় একটি ফেরেস্তা সেখানে উপস্থিত হয়ে তার মাথাই থাকা লাকড়ির আটি টি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় ফলে তার গলায় ফাশ লেগে যায় এবং সেয় অবস্থায় সে মারা যায়। আল্লাহ আবু লাহাবের মাধ্যমে দেখিয়ে দিলেন নবীজি বিরোধিতা করলে দুনিয়ায় তাদের কি পরিণতি হয় আর আখিরাতের পরিণতি তো এখনো বাকি। বিভিন্ন হাদিসে বলা হয়েছে তাদের স্থান হবে জাহান্নামের লিলিহান আগুনে।
'আমরা মুসলমান' ফলো করুনঃ
YouTube link: https://www.youtube.com/@amramusolman
Fb Page : https://www.facebook.com/amramuslman
Instagram: https://www.instagram.com/amramusolman/
Pinterest : https://www.pinterest.com/amramusolman
কোন মন্তব্য নেই